https://surl.li/nujtrv

মায়ের কোলে ১১ দিনের নবজাতক, প্রিজন ভ্যানে চেপে কারাগারে

 

মায়ের কোলে ১১ দিনের নবজাতক, প্রিজন ভ্যানে চেপে কারাগারে


কারাগারে নেওয়ার জন্য প্রিজন ভ্যানে মা শাহাজাদী ও তাঁর ১১ দিন বয়সী নবজাতক। রোববার আদালত প্রাঙ্গণেছবি: প্রথম আলো

ঘড়ির কাঁটায় তখন বেলা ৩টা বেজে ২৪ মিনিট। আদালতকক্ষের বাইরে প্রিজন ভ্যান। পুলিশের পাহারায় একে একে আসামিরা উঠছেন ভ্যানে। এর মধ্যেই এক নারী পুলিশ সদস্যের হাত ধরে আছেন আসামি শাহাজাদী। চোখে পানি, চেহারায় অসহায়ত্ব। আরেক পুলিশ সদস্যের কোলে ছোট্ট কাঁথায় মোড়ানো শাহাজাদীর ১১ দিনের নবজাতক। একবারে চুপচাপ। ভ্যানে ওঠার পর শিশুটিকে মায়ের কোলে দেওয়া হয়। কয়েক মুহূর্ত পর খুলনা জেলা কারাগারের উদ্দেশে রওনা দেয় ভ্যানটি। একসঙ্গে কারাগারের পথে যাত্রা শুরু করে মা ও ১১ দিনের নবজাতক।

১১ সেপ্টেম্বর নগরের রূপসা এলাকার একটি হাসপাতালে বাগেরহাটের রামপালের সিরাজুল ইসলাম ও ফকিরহাটের মেয়ে শাহাজাদীর (৩৬) কোলজুড়ে আসে ফুটফুটে কন্যাশিশু। তাঁদের ঘরে আগে চার কন্যাশিশু আছে।
এবার অন্তত ছেলে হবে—এমন প্রত্যাশা ছিল স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের। ছেলে না হওয়ায় স্ত্রীকে হাসপাতালেই ফেলে চলে যান সিরাজুল। এরপর আর খবর নেননি। পরিবারের চাপ ও হতাশার মধ্যে ১৫ সেপ্টেম্বর ঘটে অঘটন। একই হাসপাতাল থেকে আরেক প্রসূতির চার দিন বয়সী ছেলে নবজাতক চুরি হয়। কয়েক ঘণ্টার মধ্যে সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ ও পুলিশের তৎপরতায় উদ্ধারও করা হয়। শাহাজাদীর মা নার্গিস বেগমের (৫৫) কাছ থেকে চুরি হওয়া নবজাতককে উদ্ধার করা হয়। তখন আটক হন তিনি। পুলিশের কাছে দাবি করেন, মেয়ের সংসার টিকিয়ে রাখতে এমনটা করেছিলেন।
চুরি যাওয়া শিশুর বাবা মো. মির্জা সুজন মানব পাচার আইনে মামলা করেন। সেই মামলায় শাহাজাদীর মা ও তাঁকে আসামি করা হয়। বর্তমানে নার্গিস বেগম কারাগারে। অসুস্থ শাহাজাদী ছিলেন হাসপাতালে পুলিশের পাহারায়। রোববার তাঁকে আদালতে তোলা হলে অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।












Post a Comment

Previous Post Next Post